অজানা শঙ্কায় পৃথিবী
-----ইউসুফ আলী
তারিখ: ১৭/০৪/২০২১
উন্নতির শিখরে ধরণী যেন আজ ক্ষুদ্রকায় করোনার থাবায় নতজানু! নিত্যদিন বাড়ছে করোনার তান্ডব লীলা। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নতুন মুখ। সংক্রমন ঠেকাতে এক যেন ব্যর্থ কর্মসূচি লকডাউন ঘোষণা করেছে বিভিন্ন দেশ। সমগ্র পৃথিবী যেন এক স্বেচ্ছাকারাগারের চার দেয়ালে ঘেরা!
যার প্রভাবে শোচনীয় পরিস্থিতির শিকার সমাজের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন অভাবের তাড়নায় লকডাউন ভঙ্গ করে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। মধ্যবিত্তরাও রাস্তায় নামার অপেক্ষায়। ধনীদেরও ধরে রাখতে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। অনেক জায়গায় কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা যাচ্ছে। ফলে এক সময়ে সুলভ পণ্যগুলো এখন দুর্লভ হয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিটি দেশেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কোমল মতি ছেলে মেয়েদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিঃসঙ্গতায় অনেক ছেলে মেয়েদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানাবিধ মানসিক সমস্যা। ইতোমধ্যে মহামারি করোনায় কেড়ে নিয়েছে ত্রিশ লক্ষেরও বেশী মানুষের জীবন। মানুষ গবেষণা করে এ পর্যন্ত যে সকল টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে তাদের কোনটিরই নির্ভরযোগ্য কার্যকারিতা প্রমাণিত হয় নাই। তথাপি মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছে এ অদৃশ্য জীবাণুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে। মূলত ভাইরাসের মৃত্যুকে মানুষ যতটা ভয় পাচ্ছে তার চেয়েও বেশি ভয় পাচ্ছে অজানা এক শঙ্কাকে। যে শঙ্কা পৃথিবীকে জনশূন্য করে দিতে পারে। সরকার ভাবছে দেশ না কখন হয়ে যায়, আমলারা ভাবছে কখন না বেতন বন্ধ হয়ে যায়, মালিক ভাবছে কখন না কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, শ্রমিক ভাবছে কখন না চাকরি চলে যায়, উদ্যোক্তা ভাবছে কখন না ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যায়, চিকিৎসক ভাবছে কখন না রোগীর ছোঁয়া লেগে নিজেই আক্রান্ত হয়ে যান, পুলিশ ভাবছেন আমরা তো জনগনের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে? দিনমজুর ভাবছে আজকে কাজ না করতে পারলে কালকে কিভাবে পরিবারকে খাওয়াব? আর জণগন অাছে অনিশ্চয়তার মহাসংকটে!
আর এ অজানা শঙ্কার শেষ বা কোথায়? তবে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের সরকারের উচিত বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সব কথায় কান না দিয়ে জনগনের মধ্যে অনিশ্চয়তার এই পেন্ডামিক তৈরি হওয়ার আগে লকডাউনের মতো কর্মসূচি না দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি যতদুর সম্ভব মানাতে জণগনকে উদ্ভুদ্ধ করা। বিশেষ করে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা এবং জণগনের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা সচল রাখা। এর প্রধান কারণ ও যুক্তি হলো যদি জনসাধারণের মধ্যে আর্থিক সামর্থ্য তৈরি করা যায়, তাহলে তারা কারো অনুগ্রহে নয়, নিজের চেষ্টায় আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিতে পারবে, পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার কিনে খেতে পারবে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারবে। আমি মনে করি, এই মহামারি দূর করার বা প্রতিহত করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে অর্থ এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানা। কাজেই সরকারের উচিত জণগনের আর্থিক সামর্থ্য তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা। কারণ প্রথম উপাদান জনগনের কাছে না থাকলে জণগন রণভূমিতে পা রাখার আগেই অর্থাৎ যুদ্ধ করার আগেই মারা যাবে। আশা করি আপনারা আমার সাথে একমত হবেন।
0 Comments