মেহমান বিড়ম্বনাঃ 

নবী সাহাবাদের যুগে প্রতিবেলায় মেহমান উপস্থিত থাকত। 

প্রতিবেলায় যদি নবী সাহাবাদের নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা না হত তবে যে বেলায় খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হত সে বেলাতেই মেহমান তারা নিজের সাথে করে এনে হলেও তাদের সাথে শরীক করতেন খাদ্য গ্রহনের জন্য। 

যে বেলায় মেহমান থাকত না তারা মনে করতেন আল্লাহ মনে হয় তাদের উপর নারাজ একারনে মেহমান আসছে না।সুবহানাল্লাহ! 

এবার আসি আমাদের কথায়। 

আমরা ছ মাসে ন মাসে মেহমানদারী করি। 

সেটার আয়োজন করতে গিয়ে নিজেরাই হয়রান পেরেশান হয়ে পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য সব বন্ধ করার উপক্রম করি। কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

দুজন মেহমান বাসায় আসার কথা থাকলে আমরা কয়টা আইটেম করি খাবারের জন্য? 

পোলাও, কোর্মা, মুরগির রোস্ট,গরুর গোশত, খাসির গোশত, মাছ ভুনা,ডিম ভুনা, ভাত, ডাল, কাবাব। 

নাস্তার জন্য নুডুলস, সেমাই, ফিরনী, কয়েক পদ ফল, আইসক্রিম কত কত খাবার নাম বলে শেষ করা যাবে না।

খুব ছোট ভাবে দুজন মেহমান এর আয়োজন করতে পোলাও, মুরগী, গরু/খাসির গোশত, মাছ ভুনা, ডিম ভুনা, ডাল।নাস্তার জন্য নুডুলস, কয়েক প্রকার ফল ইত্যাদি।

এসবের আয়োজন করার জন্য একটা পরিবারের কত খরচ লাগতে পারে? 

শুধু দুপুরের খাবারের আয়োজন ছোট ভাবে করতেও দু জন মেহমান এর জন্য মিনিমাম দু হাজার টাকা লাগবে। 

বাকি হিসাব বাদ দিলাম। 

এত গুলো খাবার পরিবেশন করার জন্য বাহারি থালা বাসন না হলেই না। 

মেহমান চলে যাওয়ার পর সেসব গুছানো আরেক হয়রানি।

মেহমানের জন্য আয়োজন করা। 

এসব পরিবেশন এর জন্য থালা বাসন সাজানো ইত্যাদি সব মিলিয়ে খুবই সময় সাপেক্ষ এবং কষ্ট সাধ্য কাজ।

এই যে মেহমানের আগমনে আমরা বিব্রত হই তার পিছনে অন্যান্য বিষয় এর সাথে এসব কারনও উল্লেখ করার মত। 

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা কারন হল ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা।বেড়াতে এসে যদি হাজারো গীবত অপবাদ, নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করার মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তাহলে সেটা সুস্থ মস্তিষ্কের কারো জন্যই কাম্য না।

মেহমানের জন্য খরচ করা উত্তম কাজ । তবে এ কাজটাই আমরা নবী সাহাবাদের মত প্রতিদিন করতে পারতাম যদি আমাদের কাজগুলো সহজ হত। 

আমরা আমাদের নিজেদের জন্য কাজগুলোকে ভয়ংকর ধরনের কঠিন করে দিয়েছি।

নিজেরা প্রতিদিন যা খাচ্ছি সেসব দিয়েই প্রতিবেলায় মেহমান খাওয়ানো খুব বেশি কঠিন কাজ না। 

কিন্তু আমরা বিষয়টাকে কঠিন করেছি। দশটা আইটেম ছাড়া কি মেহমানদের আপ্যায়ন করা যায়? 

এই চিন্তাটাই আমাদের কত ভাবে পিছিয়ে দিল; অথচ আমরা একটু ভেবে দেখি না। 

কতজন মানুষের সামর্থ্য আছে মিনিমাম দু হাজার টাকা খরচ করে এক বেলায় দু জন মেহমানকে আপ্যায়ন করার? 

যাদের সামর্থ্য আছে তাদের কথা আলাদা। 

আর আমাদের যুগের মেহমানরাও কেমন যেন। 

সাদাসিধে ভাবে আপ্যায়ন তারা গ্রহন করতেও রাজি না। 

এই যে উভয়পক্ষের চিন্তাভাবনার গলদ আমাদেরকে কত রহমত থেকে বঞ্চিত করে দিচ্ছে!

একজন মানুষের খাবার খেতে কত পদ আইটেম লাগে? 

আমাদের নবী সাহাবাদের যুগে তারা যদি একটা আইটেম দিয়ে খেয়ে দিন পার করতে পারতেন আমরা কি দুটা আইটেম দিয়েও পারব না? 

দশটাই লাগবে?

উমর (রাঃ) একটা গল্প বলি।তিনি খুব সম্ভবত তার ছেলের বাসায় খেতে গিয়েছিলেন। 

গোশত রান্না করা হয়েছিল ঘি দিয়ে। 

তিনি সে খাবার গ্রহন করেননি। বলেছিলেন, ঘি নিজেই তো একটা আইটেম আর গোশত একটা আইটেম। 

একসাথে দুটা পদের খাবার তিনি গ্রহন করবেন না।  সুবহানাল্লাহ!

এরাই ছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষ।বিশ্বাস করা যায়? 

অথচ আমরা কি করি?

মুরগির আইটেম থাকলে গরুর আইটেমটা কেন করতে হবে? 

কেন মাছের আইটেম করতে হবে? 

নিজেরা যদি সেটা খাওয়া যায় সেটা দিয়ে কেন মেহমানদের আপ্যায়ন করা যাবে না?

মেহমান হিসেবে আমাদের কি উচিত মেজবানের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করা? 

অহেতুক গীবত অপবাদ, কটুবাক্য আদান প্রদান করে সম্পর্ক নষ্ট করার আসলেই কি খুব দরকার?

এই ছোট ছোট প্রশ্নের উত্তর গুলো আমাদের আবার সেই ১৪০০ বছর আগের সময়টার কাছাকাছি নিয়ে যাবে। 

বেশি কিছু লাগবে না। 

শুধু একটা চিন্তা ভাবনার পরিবর্তনই যথেষ্ট।